মহাত্মা গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকায় আইনজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি বর্ণবাদের সম্মুখীন হন। বাধ্য হয়ে তিনি ভারতবর্ষে ফেরত আসেন। তিনি ছিলেন অহিংস ও অসহযোগ আন্দোলনের প্রবক্তা। তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে মূল নেতৃত্ব প্রদান করেন। অপার নির্যাতন ও অত্যাচার সহ্য করে তিনি স্বাধীন ভারতের অভ্যুদয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
"উদ্দীপকের মহাত্মা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধুর অবদান জাতির মুক্তির প্রশ্নে অভিন্ন, কিন্তু তাদের কর্মকৌশল ও প্রজ্ঞা আলাদা"- মন্তব্যটি যথার্থ।
জগতে যুগে যুগে স্বজাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর করে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বহু রাষ্ট্রনায়ক নেতার আবির্ভাব ঘটেছে। তাঁরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে সংগ্রামের পথে এগিয়ে দিয়েছেন। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।
'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' রচনায় শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। তিনি পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের নিগড় থেকে বাঙালিকে মুক্তির জন্য অনুপ্রাণিত করেন। তিনি এদেশের মানুষের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক মুক্তির জন্য যে আন্দোলন, সংগ্রাম করে আসছিলেন, তা ৭ই মার্চের ভাষণে পুনরাবৃত্তি করে বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে বলেন। তিনি শাসকদের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠে উচ্চারণ করেন-"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম-স্বাধীনতার সংগ্রাম।" শেখ মুজিবুর রহমানের এই আন্দোলন-সংগ্রাম মহাত্মা গান্ধীর আন্দোলন-সংগ্রামের মতো নয়। মহাত্মা গান্ধী স্বদেশি পণ্য গ্রহণ এবং বিদেশি পণ্য বর্জনের অহিংস আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। ব্রিটিশদের অন্যায় আইনের প্রতিবাদ করেছিলেন। উদ্দীপকে বলা হয়েছে তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদান করেন কিন্তু তা আলোচ্য প্রবন্ধে বর্ণিত শেখ মুজিবুর রহমানের মতো এতটা তেজোদীপ্ত ছিল না।
'এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম' রচনায় শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালিকে স্বাধীনতার জন্য যেভাবে ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, তা মহাত্মা গান্ধীর পক্ষে সম্ভব হয়নি। বাঙালি কীভাবে তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যাবে সেই দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন, যা উদ্দীপকে মহাত্মা গান্ধীর আন্দোলনে প্রকাশ পায়নি। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?